
From the bundle
ক্ষমতা, নেতৃত্ব আর জীবন জয়ের ২৬টি গল্প
শুরুর আগে দু-চার কথা
প্রথমবার 'দ্য প্রিন্স' পড়তে বসে আমি চল্লিশ মিনিটের মাথায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। শুধু ঘুমাইনি, স্বপ্নও দেখেছিলাম। স্বপ্নে ষোলো শতকের এক ইতালিয়ান রাজা আমার দিকে ঝুঁকে জিজ্ঞেস করছেন, "বাবা, তোমার গ্যাসের বিল কি এ মাসেও বেশি এসেছে?" স্বপ্নের যুক্তি এরকমই। কেন এসেছে কেউ জানে না, তবে প্রশ্নটা আমার কাছে মোটেও অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়নি।
ঘুম ভাঙার পর নিজের কাছেই লজ্জা পেলাম। পাঁচশো বছর ধরে যে বই রাজা, মন্ত্রী, ব্যবসায়ী আর ছাত্রদের মাথা গরম করে রেখেছে, আমি সেটা পড়ে ঘুমিয়ে যাই কী করে? পরে বুঝলাম, দোষ বইয়ের না, নামের। ফ্রান্সেস্কো স্ফোর্জা, চেজারে বোর্জিয়া, ফেরদিনান্দ—এসব নাম আমাদের পাড়ার চায়ের দোকানে উচ্চারণ করলে কাদের মিয়া কাপ নামিয়ে জিজ্ঞেস করবে, "ভাই, আপনের শরীর ঠিক আছে?"
তাই এই বই। মাকিয়াভেলির কথাগুলো আমি পাড়ার গলিতে নিয়ে এসেছি, যেখানে রাজা নেই, আছে সভাপতি; তলোয়ার নেই, আছে মাইক; দুর্গ নেই, আছে তালা-দেওয়া ছাদের দরজা।
লোকটার পরিচয়টা একটু দিই। নিকোলো মাকিয়াভেলি ছিলেন ফ্লোরেন্সের সরকারি কর্মকর্তা। ১৫১২ সালে ক্ষমতার হাতবদল হলো, চাকরি গেল। পরের বছর ষড়যন্ত্রের সন্দেহে জেলে গেলেন, সইতে হলো নির্যাতনও। ছাড়া পেয়ে গ্রামের এক খামারবাড়িতে বসে দিনে মুরগি আর কাঠুরেদের সঙ্গে ঝগড়া করতেন, রাতে ভালো জামা পরে বইয়ের সামনে বসতেন। সেই রাতগুলোতেই লেখা হলো 'দ্য প্রিন্স'। বইটা তিনি উৎসর্গ করলেন ফ্লোরেন্সের নতুন শাসককে, একটা চাকরির আশায়।
অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত রাজনৈতিক বইটা আসলে একটা চাকরির দরখাস্ত। মনের মতো চাকরিটা অবশ্য তিনি পাননি। বেকার তরুণদের জন্য এতে একটা সান্ত্বনা আছে: আপনার দরখাস্ত আজ রিজেক্ট হলেও পাঁচশো বছর পরে সেটা কালজয়ী হয়ে যেতে পারে।
একটা কথা আগেই বলে রাখি। মাকিয়াভেলির কিছু পরামর্শ আজকের চোখে কঠিন, এমনকি নির্মম। এই বইয়ে আমরা নির্মমতা শিখব না। আমরা শিখব পরিষ্কার চোখে দেখতে: কেন কেউ ক্ষমতা পায়, কেন হারায়, কেন কেউ পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে আর কেউ বালির ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। নেতৃত্ব শুধু রাজাদের বিষয় না। আপনার পরিবার, আপনার দোকান, আপনার অফিসের ছোট্ট দলটাও একটা রাজ্য। আর যে নিজের রাজ্যকে চেনে, সে-ই তাকে গড়তে পারে।
পাত্রপাত্রী
(সবাই কাল্পনিক। আপনার চেনা কারও সঙ্গে মিলে গেলে সেটা কাকতালীয়। আমি দায়ী নই, চাইলেও হতে পারি না; সে ক্ষমতা আমার নেই।)
- আমি: বয়স আঠাশ, সাময়িক বেকার। শখ: ঘুম এবং দুশ্চিন্তা। দুটো একসঙ্গে করতে পারি।
- মকবুল চাচা: আটষট্টি বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাসের শিক্ষক। পকেটে সবসময় পানের ডিব্বা আর একটা ছেঁড়া বই। কথা বলেন গম্ভীর মুখে, হাসেন গোপনে।
- কাদের মিয়া: চায়ের দোকানদার ও পাড়ার দার্শনিক। জীবনদর্শন: "দুধ কম, চিনি বেশি, জ্ঞান ফ্রি।"
- গফুর সাহেব: কাঁঠালতলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি। বারো বছর ধরে।
- বদরুল ভাই: উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবনেতা। রাতে রোদচশমা পরেন, কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন "ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল।"
- রহিমা খালা: পাড়ার সব খবরের উৎস। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর কাছে ট্রেনিং নিতে পারে।
অধ্যায় ১

